বর্তমানে যখন নিউ ইয়র্ক সিটির স্কুল ব্যবস্থা স্থিতিশীল এবং সিটির সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হতে শুরু করেছে, মেয়র ব্লুমবার্গ ও চ্যান্সেলর ক্লাইন নিউ ইয়র্ক সিটির ১৪ শয়েরও বেশি স্কুলগুলোকে সফল স্কুলে পরিণত করতে তাদের সকল প্রচেষ্টা নিয়োগ করেছেন।
এই পুনর্গঠনের দ্বিতীয় ধাপের পশ্চাতে যে মূলসূত্রগুলো কাজ করছে, পূর্ববর্তী ধাপেও চালিকাশক্তি ছিলো প্রথম ধাপের সেই সূত্রগুলো: সুনেতৃত্ব, ক্ষমতায়ন এবং দায়বদ্ধতা।
সুনেতৃত্ব: সকল সংগঠনের সফল হতে সকল স্তরে ভালো নেতানেত্রীর প্রয়োজন। একটি সংগঠনের সকল স্তরে শক্তিশালী নেতৃত্ব পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রিন্সিপ্যালদের। তারা গুরুত্বপূর্ণ স্কুলভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এবং তাদেরকে সজ্ঞাত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও বুদ্ধিদীপ্ত ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা দিতে হবে। প্রিন্সিপ্যালদের গুরুত্ব চ্যান্সেলর স্বীকার করেন এবং তিনি নেতৃত্ব বিকাশ ও লালনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
ক্ষমতায়ন: ২০০৭-০৮ শিক্ষা বছর থেকে ডিওই সকল পাবলিক স্কুলকে ক্ষমতায়িত করতে শুরু করেছে, তাই শিক্ষার্থীদের সাথে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই শিক্ষার্থীদের সফল হতে সহায়ক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন, শিক্ষাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্কুলেই গ্রহণ করা হচ্ছে।
পাবলিক স্কুল এম্পাওয়ামেন্ট (সরকারি স্কুল ক্ষমতায়ন) গড়ে উঠেছে এম্পাওয়ারমেন্ট স্কুল উদ্যোগের উপর ভিত্তি করে। গত বছর, ২০০৬-০৭ স্কুল বছর, ৩৩২টি নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুল অধিকতর সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা ও সহায়সঙ্গতি লাভ করেছে এবং তার বিনিময়ে সাফল্যের জন্য জবাবদিহিতার দায় স্বীকার করে নিয়েছে। এসব “এম্পাওয়ারমেন্ট স্কুল” (ক্ষমতায়িত স্কুল) শিক্ষার্থীদের উচ্চ স্তরের সাফল্যের প্রতিশ্রুতি ও ব্যর্থতার জন্য স্পষ্টভাবে উল্লিখিত পরিণাম লাভের কার্যসম্পাদনা চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করেছে। এই প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রিন্সিপ্যাল ও তার টিম শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনমাফিক শিক্ষানির্দেশনা কৌশল প্রণয়নের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এসব স্কুল নিজেরাই তাদের সহায়ক টিম বেছে নিয়েছে, বাড়তি শিক্ষার্থী নিয়োগ, সৃষ্টিশীল সময়সূচি তৈরি, প্রয়োজনমাফিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা, পেশাগত উন্নয়নের জন্য অর্থ বিনিয়োগ এবং তাদের শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করে এমন অভ্যন্তরীণ ও বহির্গত উভয়বিধ পরিষেবার জন্য অর্থব্যয় করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি মিলছে এবং প্রিন্সিপ্যালগণও এই নতুন মডেল সম্পর্কে খুবই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
২০০৭-০৮ শিক্ষা বছর থেকে শুরু করে সকল পাবলিক স্কুলই ক্ষমতায়িত, তাই সেগুলোর প্রিন্সিপ্যাল ও তাদের টিম সম্পদ ব্যবহারে, কর্মী নির্বাচনে, এবং তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসূচি তৈরিতে নিজেদের বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগের সুযোগ লাভ করেছেন। স্কুলগুলোও পেয়েছে অধিকতর বেশি উপকরণ, কেননা ডিপার্টমেন্টের নতুন ন্যায্য অর্থায়ন-সূত্র অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে তহবিল বণ্টন করা হয়।
২০০৭-০৮ সালের শুরুতে প্রিন্সিপ্যালগণ তাদের উপযোগী সবচেয়ে ভালো সহায়তা পরিষেবা, কর্মী এবং শিক্ষার্থী বাছাই করেছিলেন। প্রিন্সিপ্যালগণ তাদের স্কুল কম্যুনিটির সাথে আলাপক্রমে তিন ধরনের স্কুল সহায়তা সংগঠনের (সাপোর্ট অর্গ্যানাইজেশন) মধ্য থেকে একটি বাছাই করেছিলেন, যার সবগুলো তৈরি হয়েছে স্কুলগুলোকে সহায়তা দেয়ার জন্য যাতে তারা নিউ ইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের নির্ধারিত উচ্চমান অর্জন করার লক্ষ্যে কাজ করতে পারে। স্কুলগুলো প্রধান তিন ধরনের স্কুল সাপোর্ট সংগঠনের মধ্য থেকে বাছাই করে নিতে পারে:
• ক্ষমতায়ন সহায়তা সংগঠন (এম্পাওয়ারমেন্ট সাপোর্ট অর্গ্যানাইজেশন)
ক্ষমতায়ন স্কুলগুলো এই মৌলিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে যে শিক্ষার্থীদেরকে কীভাবে শিক্ষনির্দেশনা দিতে হবে, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিক্ষার্থীদের সাথে ঘনিষ্টভাবে যারা কাজ করেন, তারা- প্রিন্সিপ্যালসহ তার সাথে একযোগে যারা স্কুলকম্যুনিটিতে কাজ করেন। এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে কর্মসূচি ও পাঠক্রম তৈরিতে অধিকতর কর্তৃত্ব, বাজেটের উপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ, প্রিন্সিপ্যালকে সহায়তাদানকারী নিবেদিত প্রশাসনিক টিম নির্বাচনে ও মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং প্রিন্সিপ্যালগণ তাদের ও কর্মীদের জন্য যেসব প্রয়োজনমাফিক পেশাগত উন্নয়ন কামনা করেন, সেগুলো বাছাই করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ।
• শিক্ষণ সহায়তা সংগঠন (লার্নিং সাপোর্ট অর্গ্যানাইজেশন)
শিক্ষণ সহায়তা সংগঠনের (এলএসও) নেতৃবৃন্দ স্কুলগুলোকে নির্দিষ্ট বিষয়কেন্দ্রীক সহায়তা দিতে শিক্ষক, প্রিন্সিপ্যাল এবং স্কুলব্যবস্থার নেতা হিশেবে তাদের দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী সাফল্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়ে আসেন। এসব সহায়তাগুলোর সাথে যুক্ত আছে সিটির সর্বত্র লভ্য শ্রেষ্ঠ আচরণসমূহ। তাদের টিমগুলোতে অন্তর্ভুক্ত আছেন ভূতপূর্ব আঞ্চলিক বা সেন্ট্রাল অফিস থেকে আসা অনেক অভিজ্ঞ পেশাদারগণ।
প্রতিটি এলএসও-এর অন্তর্ভুক্ত আছে শিক্ষানির্দেশনা, পাঠক্রম প্রণয়ন, কর্মসূচি তৈরি, যুব উন্নয়ন ও পেশাগত সমৃদ্ধির প্রতি বিশেষ অভিনিবেশসহ বৈশিষ্টমণ্ডিত সহায়তার প্রতিশ্রুতি। এলএসও-এর সহায়তা আঞ্চলিক সীমারেখার বাইরেও সিটির সকল স্কুলের জন্য লভ্য এবং রকমারি স্কুলসমূহের অনন্য চাহিদা মেটানোর জন্য এসব সহায়তাগুলো বিশেষভাবে তৈরি।
• অংশীদারিত্ব সহায়তা সংগঠন (পার্টনারশিপ সাপোর্ট অর্গ্যানাইজেশন)
অংশীদারিত্ব সহায়তা সংগঠনগুলো (পিএসও) পরিচালিত হয় ডিওই বহির্ভূত মধ্যস্থতাকারী, কলেজ, ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধি দলের দ্বারা যাদের কম্যুনিটি ও স্কুলসমূহকে বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা দেয়ার প্রমাণিত রেকর্ড আছে। এসব প্রত্যেকটি সংগঠন স্কুল লিডারশিপে অংশগ্রহণ করবে যাতে আমাদের সিটি ও দেশের অন্যসব এলাকায় যা কাজ করছে, এখানেও সেটাকে কাজে লাগানো।
এসব সংগঠন এমনসব পরিষেবা ও সহায়তা প্রদান করে যা এখন পর্যন্ত সময় সময় ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন প্রদান করে এসেছে। রিজিওন্যাল অফিসের মাধ্যমে ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন সহায়সঙ্গতি নিয়োজিত করেছে এবং স্কুলের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেন্ট্রাল এবং রিজিওন্যাল সিদ্ধান্তগ্রহণের ফলে সমাধান হয় অভিন্ন, যদিও আমাদের প্রতিটি স্কুলের রয়েছে অনন্য চাহিদা এবং চ্যালেঞ্জ। একটি বৃহৎ ব্যবস্থায় কার্যকর ক্ষমতায়ন ও সুসমঞ্জস ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টাটি কোন সঠিক পন্থা নয়।
আমাদের সব স্কুলকে নিজেদের প্রয়োজনীয় সহায়তা উপকরণ গ্রহণের জন্য ক্ষমতায়িত করা হওয়া সত্ত্বেও তারা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের নীতি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও প্রবিধান অনুযায়ী পাবলিক স্কুল। স্কুলগুলোকে ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের দেয়া অন্যান্য শর্তাবলির সাথে সাথে ডিওই-এর ভর্তির নিয়ম-কানুন, আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা, স্পেশাল এডুকেশনের শর্তাবলি, শ্রম চুক্তি, চ্যান্সেলরের প্রবিধান এবং দায়বদ্ধতার মান, ইত্যাদি প্রতিপালন করতে হবে। এছাড়াও, কম্যুনিটি ও হাই স্কুল সুপারিনটেনডেন্ট প্রিন্সিপ্যালের মাননিরীক্ষণ কর্মকর্তা থাকবেন।
দায়বদ্ধতা: ক্ষমতায়ন ও দায়বদ্ধতা পারস্পরিকভাবে নিয়ম-নীতিকে শক্তিশালী করে। প্রিন্সিপ্যালের প্রয়োজন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তবে তাদের জন্য অবশ্যই সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে এবং তাদেরকে অভীষ্ট ফল লাভের জন্য দায়বদ্ধ রাখতে হবে।
২০০৬ সালের এপ্রিলে চ্যান্সেল একটি সমন্বিত দায়বদ্ধতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সকল স্কুল অগ্রগতির প্রতিবেদন লাভ করে যার মাধ্যমে তাদেরকে নম্বর দেয়া হয়, “স্কুলের পরিবেশ” সহ মূল্যায়ন করা হয় “কার্যসম্পাদনা” এবং “অগ্রগতি”। সকল স্কুলকে পূর্ণ অন-সাইট মান-নিরীক্ষণ পর্যালোচনা করা হয়। একটি স্কুলের “মানভিত্তিক স্কোর” তার অগ্রগতির প্রতিবেদনে স্কুলের গ্রেডের সাথে প্রকাশ করা হবে।
আমাদের সকল শিক্ষার্থীদের কার্যসম্পাদনা ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন।
২০০৭-০৮ স্কুল বছর থেকে সব স্কুলকে তাদের সই করা “কার্যসম্পাদনার শর্ত সংক্রান্ত বিবৃতি” বাস্তবায়নের জন্য দায়বদ্ধ করা হচ্ছে। এই দলিলে তারা নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন যা শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মাত্রায় অগ্রগর্তি অর্জনে সহায়তা করে।
শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় এবং প্রাপ্য শিক্ষা স্কুল থেকে না পেলে সংশ্লিষ্ট স্কুল তাদের পরিণতি ভোগ করবে, অনুরূপভাবে যেসব স্কুল মান অর্জন করে বা উত্তীর্ণ হয়, সেগুলো পুরস্কার লাভ করবে।
এই পৃষ্ঠার ইংরেজি সংস্করণ দেখতে , যেখানে আরও তথ্য থাকতে পারে , অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন ।